Address

Manabadhikar Bhaban
04, College Road,
Shahbagh, Dhaka-1000,
Bangladesh
Telephone: +88 02 9568224
Fax: +88 02 9513836
Email: info@manabadhikar.org

Map

Press Release

তারিখঃ ১/১১/২০১৬

প্রেস রিলিজ

= ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নিন্দা =

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংস্থার চেয়ারম্যান এডভোকেট সিগমা হুদা বলেন, সংখ্যালঘুরাও এদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের মতো একটি অসাম্প্রাদায়িক দেশে এ ঘটনা অপ্রত্যাশিত! এ ধরনের ঘটনা দেশের উন্ন্য়নে নিশ্চিত ভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এখনই শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে ঘটনা আরোও বাড়তে পারে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা সোহেল বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে! দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী কারার জন্যই মূলত এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়। তাই এ ঘটনার, দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, জনগনের সবিনয় অংশগ্রহন ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

উল্লেখ্য গত ৩০ অক্টোবর রবিবার ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ব্যঙ্গচিত্র প্রকামের জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আক্রমন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা লুটপাটের এই ঘটনা ঘটে।

ফাতেমা ইয়াসমিন
কমিউনিকেশন এন্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস)

 

তারিখঃ ২৫/০৭/২০১৬

প্রেস রিলিজ

= নারায়ণগঞ্জে পৈশাচিক উপায়ে শিশু শ্রমিক হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ক্ষোভ ও নিন্দা =

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের একটি কারখানায় সাগর বর্মণ নামে ১০ বছরের এক শিশুকে পৈশাচিক উপায়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

মলদ্বার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে খুলনার শিশু রাকিবকে হত্যা করার এক বছর না পেরুতেই একই কায়দায় হত্যা করা হলো কারখানা শ্রমিক শিশু সাগর বর্মণকে। রবিবার ২৪ জুলাই দুপুরে রুপগঞ্জের জোবেদা টেক্সটাইল অ্যান্ড স্পিনিং কারথানায় চরম নিষ্ঠুরতম এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিগমা হুদা বলেন, এরকম ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি জাতি কোনভাবেই আশা করেনি । শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে মেতে উঠা জাতির ভবিষ্যৎ কখনো মঙ্গলময় হতে পারে না। এই ঘটনা আবারো মনে করিয়ে দিলো যে, আইনের প্রতি এখনো আমাদের শ্রদ্ধা ও ভয়ের ঘাটতি রয়েছে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা সোহেল বলেন, অপরাধীদের কঠিন শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন সাগরের খুনীদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে । সেই সঙ্গে মানুষের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে পারিবারিক ও সামাজিক ভাবেও অগ্রণী ভ’মিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দেশে গত চার মাসে ৮৫ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছ্ েআর বিভিন্ন কারনে নির্যাতিত হয়েছে ১৩৯ জন। বর্তমান জুলাই মাসের এই ২৫ দিনে এ পর্যন্ত ১৪ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

ফাতেমা ইয়াসমিন

কমিউনিকেশন অফিসার

 

তারিখঃ ০৭/০৬/২০১৬

প্রেস রিলিজ

সাম্প্রতিক একের পর এক খুনের ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার গভীর উদ্বেগ

৫ জুন একই কায়দায় দুবৃত্তদের হাতে খুন হন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের স্ত্রী মাহমুদা খানম, নাটোরের ব্যাবসায়ী সুনীল গোমেজ ও ৭ জুন ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী। ক্রমবর্ধমান এ খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে একের পর এক খুনের ঘটনা জনগণের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে । এরূপ পরিস্থিতি থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ইমেজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইমেজকেও প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। জনগনের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংস্থা যত দ্রুত সম্ভব, অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছে ।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

১৫/০৫/২০১৬

প্রেস রিলিজ

=বান্দরবানে বৌদ্ধভিক্ষুকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার গভীর উদ্বেগ=

বান্দরবানের বাইশারী ইউনিয়নে মংশৈ উ চাক নামে এক বৌদ্ধভিক্ষুকে গত ১৪ মে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের র্শীর্ষ স্থানীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যা বেড়ে গেছে। প্রায়ই কোন না কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তবে সম্প্রতি বেশ কিছু হত্যার ঘটনা সংখ্যালঘুদের মধ্যে অস্বস্তি ও ভীতির সঞ্চার করেছে।

ক্রমবর্ধমান এই খুনের ঘটনা একদিকে জনমনে উদ্বেগ ও অস্বস্তি বাড়াবে অন্যদিকে দেশের অসাম্প্রাদায়িক ইমেজকেও প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মনে করে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলেই তাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা ও আগাম কারো প্রতি দোষ না চাপিয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের খুনীদের ধরতে ও তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীকে সচেষ্ট থাকতে হবে। সকল ধর্মের জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংস্থা যত দ্রুত সম্ভব, অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘটনা ছাড়াও গত ২২ এপ্রিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাধু পরমানন্দ রায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারী পঞ্চগড় জেলার এক গ্রামে মঠ প্রধান যজ্ঞেশ্বর রায়কে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

প্রেস রিলিজ

তারিখঃ ১০/০৫/২০১৬

=বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ইউনিয়ন চতুর্থ পর্যায়ের পরিষদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রাথমিক প্রতিবেদন=

=প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন নির্বাচন, সরকার দলীয় প্রার্থীদের সুস্পষ্ট প্রভাব, প্রিজাইডিং অফিসারদের ঢিলেঢালা মনোভাব ও কোথাও কোথাও সমঝোতার নির্বাচন=

গত ৭ মে অনুষ্ঠিত চতুর্থ পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ৪৮ জন ভ্রাম্যমান পর্যবেক্ষক ৯ টি উপজেলার ৩০ টি ইউনিয়নের ১২১ টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোথাও কোথাও সরকার দলীয় প্রার্থীদের সুস্পষ্ট প্রভাব, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন, প্রিজাইডিং অফিসারদের ঢিলেঢালা মনোভাব, দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বোঝাপড়ার চিত্র, হুমকি প্রদর্শন, জাল ভোট এবং ভোটকেন্দ্রে অহেতুক হাঙ্গামা বাধানোর চেষ্টা হয়েছে।

ভৈরবের কালিকা ইউনিয়নের কালিকা প্রসাদ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা সমর্থকদের সাথে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এত সাধারন ভোটাররা আতংকিত ও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গড়সিন কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের পক্ষে জাল ভোট ধরা পড়ার ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। টাঙ্গাইলের আলোকদিয়া ইউনিয়নের কালামাঝি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল এগারটার দিকে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা কেন্দ্রে ঢুকে হাঙ্গামা শুরু করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

রংপুরের হারা গাছ ইউনিয়ন পরিষদের ইমামগঞ্জ হাইস্কুল কেন্দ্রে বেলা ১২ টার সময় নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১০ মিনিট পর আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। একই কেন্দ্র্রে নৌকা প্রতীকের পক্ষে টাকা লেনদেনের সময় দুই সমর্থককে পুলিশ গ্রেফতার করে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নে বাঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সর্মথকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে ভোটাররা শংকিত হয়ে পড়েন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৬ নং সাকসার ইউনিয়নে হানিফ মিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামী লিগ সমর্থিত ও প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। কালিয়াকৈরের সুত্রাপুর ইউনিয়নের টান সুত্রাপুর সরকারী প্রাথমিক স্কুল এবং দরিয়াহর সরকারী প্রাথমিক স্কুল কেন্দ্রে বেলা এগারোটার দিকে শত শত ভোটারদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। চাপাই ইউনিয়ন পরিষদের ব্র্যাক গণকেন্দ্র পাঠাগার কেন্দ্রেও মাঠের ভেতর অনেক নারী ভোটারকে লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের ঢিলে ঢালা ভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ নির্বাচনই মনে হয়েছে প্রতিদ্বন্দি¦তাহীন এবং একপেশে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদের কেন্দ্রে গিয়ে শোনা যায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের আগেই সমঝোতা হয়ে গেছে ।

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো উৎসাহ ব্যাঞ্জক। পর্যবেক্ষণকৃত ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭৫% এর মত। প্রতিটি ইউনিয়নে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। পর্যবেক্ষণকৃত কোনো কোনো কেন্দ্রে আলোর স্বল্পতা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি কোন কোন কেন্দ্রে বুথের গোপনীয়তা সঠিক ছিলো না। তবে পর্যবেক্ষণকৃত প্রায় সকল কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিলো। আইনশৃংখলা বাহিনীকেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

সুষ্ঠু ও অবাধ স্থানীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্থা তাদের সুপারিশে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ, নারী ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০১৬

*প্রেস রিলিজ *

*রাজধানীর কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার উদ্বেগ*

রাজধানীর কলাবাগানে নিজ বাসায় ইউএস এইড কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তন্ময়কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা এবং এখন পর্যন্ত অপরাধীদের ধরতে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি চোখে না পরায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশে ক্রমবর্ধমান এই খুনের ঘটনা একদিকে জনমনে উদ্বেগ ও অস্বস্তি বাড়াবে অন্যদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইমেজকেও প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করাবে। জনগনের সার্বিক নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংস্থা যত দ্রুত সম্ভব, অপরাধীদের চিন্হিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে।

‘সার্বক্ষণিক অপরাধ মনিটরিং সেল’ খোলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা বলেছেন, এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল উইং এর কাছ থেকে সমন্বিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। তবে সেই সাথে পুলিশ বাহিনীকে আরো দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভালো কাজের তাত্ক্ষণিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি কলাবাগান হত্যাকান্ডের পর অপরাধীদের হাতে আহত পুলিশ সদস্যর উন্নত চিকিত্সা নিশ্চিত করারও আহবান জানান।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

তারিখঃ ২৭/০৪/২০১৬

প্রেস রিলিজ

ক্রমবর্ধমান হত্যাকান্ডে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার উদ্বেগ

দেশে একের পর এক লেখক, অধ্যাপক, ইমাম, পুরোহিত, প্রকাশক ও ব্লগার হত্যায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আজ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মনে করে, রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকারীদের ধরতে ব্যর্থ হওয়া, বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া এসব ঘটনার পূনরাবৃত্তিতে সহায়তা করছে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা বিশ্বাস করে, বাক স্বাধীনতা মানেই অন্যের বিশ্বাসকে ছোট বা আঘাত করা নয়। প্রকৃত মুক্তমনা ও প্রকৃত ধার্মিক কখনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বিশ্বাসী নয়। সংস্থাটি মনে করে সাধারন জনগনের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রকে যথাযথ তদন্তপূর্বক দোষী ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১৪ ব্লগার, লেখক, অধ্যাপক ও প্রকাশককে হত্যা করা হয়। চলতি এপ্রিল মাসে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয় ৭২ জন ও আহত হয় ৫২ জন।

ফাতেমা ইয়াসমিন

কমিউনিকেশন অফিসার

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

তারিখঃ ৪/০৪/২০১৬

প্রেস রিলিজ

=ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার উদ্বেগ=

দ্বিতীয় পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যপক সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আজ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত হন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে নিহত হয়েছিলেন ২১ জন ও আহত হন ১৫৩৬ জন ।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষে নির্বাচন কমিশনকে আরো কঠোর ভুমিকা পালন করতে হবে। গত দুই দফার নির্বাচনে সরকার দলীয়দের সুস্পষ্ট প্রভাব, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীদের হুমকি, মারধর, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিষয়ে কমিশনের পদক্ষেপ বেশ দুর্বল মনে হয়েছে। সিগমা হুদা বলেন, সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে কেউ সরকারের পুতুল হিসেবে দেখতে চায় না, বরং তারা দল, মত নির্বিশেষে সকলের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার লক্ষে আরো শক্ত পদক্ষেপ নেবেন। তিনি আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোর কাছ থেকেও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার শিক্ষা গ্রহনের আহবান জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে যথাযথভাবে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি হয়তো আরো ভালো হতে পারতো। তিনি আশা করেন, আগামী দিনগুলোতে সবার পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে সত্যিকার অর্থে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা প্রথম পর্যায়ে দোহার, টাঙ্গাইল, ঝিনাইদহ, সিলেট ও খুলনার বিভিন্ন ইউনিয়ন এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

প্রেস রিলিজ

 

২৮ মার্চ, ২০১৬

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার গবেষণা

মার্চ মাসে ধর্ষণের শিকার ২১ জন নারী ও শিশু

২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় সোহাগী জাহান তণূ নামে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগ জনক। ঘটনার সাত দিন পার হলেও তদন্তের বিশেষ কোন অগ্রগতি নেই। অতীতে দেখা গেছে বিচাররের দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। তাই অবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যডভোকেট সিগমা হুদা বলেন, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারন। তাছাড়া প্রলম্বিত বিচারব্যবস্থা, বিদেশী অপসংস্বৃতি অনুকরন, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার ইত্যাদি কারনেও এই ঘটনা গুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । তিনি আরও বলেন, এই অবস্থা নিরসনের জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি অপরাধেিদর দ্রত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সকল মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন গুলোকে এক হয়ে গণ সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা শুরু হয় পরিবার থেকে তাই শিশুর জন্য ভাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার গুলোকে আরোও সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য চলতি মার্চ মাসে এই পর্যন্ত ২১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হযেছে। এদের মধ্যে নারী ৯ জন। ৭ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ১ মার্চ নীলফামারিতে নবম শ্রেনীর এক মাদ্রাসা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪ জনকে।

ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। মার্চে ঢাকা বিভাগে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৪ টি। দুটি ঢাকার দোহার ও কমরাঙ্গীচরে, বাকি দুটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে কিশোরগঞ্জ ও নারায়নগঞ্জে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গুলো ঘটে রংপুর, খুলনা ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

ফাতেমা ইয়াসমিন

কমিউনিকেশন অফিসার

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

*প্রেসরিলিজ *
* ২২ মার্চ,২০১৬ *
*বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রাথমিক প্রতিবেদন *
*সরকার দলীয় প্রাথীদের সুস্পষ্ট প্রভাব. সহিংসতা ও কোথাও কোথাও সমঝোতার নির্বাচন *

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ৩০ জন পর্যবেক্ষক ভ্রাম্যমান ভিত্তিতে আজ ঢাকার দোহারের ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের ১১ টি কেন্দ্র, খুলনায় ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ টি কেন্দ্র, সিলেটের ৬ টি ইউনিয়ন পরিষদের ৩৮ টি কেন্দ্র, ঝিনাইদহের ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের ১৬ টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো কোনো ইউনিয়ন এ সরকার দলীয় প্রাথীদের সুস্পষ্ট প্রভাব, সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে বহিরাগতদের আনাগোনা ও কোথাও কোথাও দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বোঝাপড়া’র চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থার মতে, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা সত্তেও অধিকাংশ স্থানে নির্বাচনী পরিবেশ ছিলো শান্তিপূর্ণ।

দোহারের মকসুদপুর ইউনিয়ন এ সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রাথীর সাথে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রাথীর ভোটের আগেই বোঝাপড়া হয়ে যাওয়ায় সবগুলো কেন্দ্রেই ছিল নিরুত্তাপ পরিবেশ। প্রতিযোগিতাহীন এই নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ ছিলো কম । এদিকে সিলেটের টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই ঘটনা ঘটে। খুলনায় পর্যবেক্ষনকৃত কিছু কেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রাথীদের সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্টদের দেখা যায়নি। সিলেটের বিভিন্ন কেন্দ্রেও সরকার দলীয় প্রাথীদের সুস্পষ্ট দাপট লক্ষ্য করা গেছে।কিছু কেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্টদের দেখা যায়নি। কোনো কোনো কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ভীত সন্ত্রস্থ দেখা গেছে। পর্যবেক্ষণকৃত বেশ কিছু কেন্দ্রে বহিরাগত ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষনীয়। কোথাও কোথাও অবাধে মটর বাইকে সরকারদলীয় সমর্থকদের ঘোরা-ফেরা করতে দেখা যায়।

সিলেটের কুমারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেলের দিকে পুলিশের সামনেই বিএনপি দলীয় প্রাথীর মর্থকদের মারধোর করে সন্ত্রাসীরা। টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের আখালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির নির্বাচনী বুথ পুড়িয়ে দেয়া হয়। সুজাতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

তবে পুরুষ ভোটারের চাইতে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিলো উত্সাহ ব্যাঞ্জক। পর্যবেক্ষনকৃত ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার উপস্থিতি ছিলো আনুমানিক শতকরা ৬৫ ভাগ। সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষনীয়। তবে একসাথে তিনটি পদের জন্য তিন রঙের ব্যালট থাকার কারণে নিরক্ষর ভোটারদের কারো কারো সাময়িক অসুবিধায় পড়তে দেখা গেছে।

দোহারের কোনো কোনো কেন্দ্রে আলোর স্বল্পতা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি কোনো কোনো গোপন বুথের গোপনীয়তা সঠিক ছিলো না। তবে পর্যবেক্ষনকৃত প্রায় সকল কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিলো। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

সংস্থা সুষ্ঠু ও অবাধ স্থানীয় নির্বাচনের লক্ষে তাদের সুপারিশে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ, নারী ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

মোস্তফা সোহেল
নির্বাহী পরিচালক
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

প্রেস রিলিজ

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে

*ঢাকা, ২১ মার্চ ২০১৬।*

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষক দল সম্পূর্ণ সেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে আগামী ২২ মার্চ থেকে অনুষ্ঠেয় প্রথম পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ভ্রাম্যমান ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করবে। সংস্থা দোহারের নয়াবারী, কুসুমহাটি, নারিসা, মকসেদপুর, বিলাসপুর ইত্যাদি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ভ্রাম্যমান ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করবে।

এছাড়াও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল, খুলনা, চট্রগ্রাম, সিলেট ও ঝিনাইদহ শাখা থেকেও একযোগে এই নির্বাচন সেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করবে। দ্বিতীয় পর্যায় থেকে আরো বেশি জেলা অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ শেষে সংস্থা একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

সংস্থা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত অনুমতি পেয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ উপলক্ষ্যে সংস্থা নির্বাচনের প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করেছে।

মোস্তফা সোহেল
নির্বাহী পরিচালক
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

প্রেস রিলিজ
তারিখঃ ০৯ মার্চ, ২০১৬
মিরপুরে গৃহকর্মী জনিয়া হত্যা

=ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাল্টে ফেলার আশঙ্কায় মৃতের পরিবার। ন্যায় বিচার চেয়ে মানবাধিকার সংস্থার কাছে বাবার আর্তি=

৬ মার্চ রাজধানীর কাফরুলে মায়ের বদলে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয় ১৫ বছর বয়সী জনিয়া। ধর্ষণের পর তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবার ও এলাকাবাসীর। এর প্রতিবাদে থানার সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।

স্বজনদের অভিযোগ ধর্ষণকারীর বাবা-মা প্রভাবশালী হওয়ায় হত্যাকান্ড ধামাচাপা দিতে নানা ধরনের নাটকের অবতারনা করছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরী হয়েছে ধু¤্রজাল,তারা বলেন থানায় হত্যা মামলা করতে চাইলেও থানা পুলিশ তা নেয়নি।ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তিত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে মেয়েটির পরিবার সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

মৃতের বাবা উছমান গনি ন্যায্য বিচার লাভের আশায় আজ বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কার্র্যালয়ে আসেন। তিনি বলেন থানায় লাশের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের সময়ও কোন নারী পুলিশকে দেখা যায়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সহ অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবী জানান। সেই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও সকল মানবাধিকার সংগঠনের কাছে এ বিষয়ে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানান। উল্লেখ্য দরিদ্র ও অসহায় জনিয়ার পরিবারকে ন্যায় বিচারের জন্য সকল প্রকার আইনি সহায়তা দেবে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আগামী সোমবার দপুরে সংস্থার নিজস্ব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে সংস্থাটি।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

তারিখঃ ০৮ মার্চ, ২০১৬

প্রেস রিলিজ

=আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের নির্ভীক চিত্তে এগিয়ে যাওয়ার অহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা=

৮ মার্চ বিশ্বব্যাপি আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা ও নারীদের মাথা তুলে বাঁচতে শেখার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান এডভোকেট সিগমা হুদা ও মহাসচিব এডভোকেট জাহানারা বেগম। তারা বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় -অধিকার মর্যাদায় নারী পুরূষ সমানে সমান, নারীর জাতিগত, সাং¯কৃতিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দিতে হবে। নারীরা অধিকার আদায়ের জন্য যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে সেই ইতিহাসকে মনে রেখে আজকের নারীরা এগিয়ে যাবে আগামীর বৈষম্যহীন সমাজে তার এই কামনা করেছেন।

এই বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে নারীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। নারীদের অধিকার আদায় ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে নারীদের এক ভরসার স্থান হিসেবে ইতিমধ্যে স্থান করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সকল নারীকে নির্ভিক চিত্তে এগিয়ে যাওয়ার আহব্বান জানাচ্ছে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। তাদের এই যাত্রায় সঙ্গী হয়ে পাশে থাকবে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

বিনীত

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

 

প্রেস রিলিজ

তারিখঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু হত্যা ও অপহরনে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়নের ক্ষোভ

দেশে সম্প্রতি শিশু হত্যা ও অপহরণের ঘটনায় শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আজ এক বিবৃতিতে সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা বলেন, অপরাধীরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ফুলের মতো নিস্পাপ শিশুদের সহজ লক্ষবস্তুতে পরিনত করছে।

এ ছাড়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় শিশু হত্যার ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধ প্রতিরোধ করতে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সচেতনতাই পারে কেবল এই ধরনের সংকট থেকে উদ্ধার করতে।

তিনি সরকারকে শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আরো শক্ত পদক্ষেপ নেবার আহবান জানান। শিশুদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিশু সনদের আদলে ২০১৩ সালে যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করারও আহবান জানান তিনি।

উল্লেখ্য চলতি মাসের ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৭ দিনেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে অন্তত ১৪ শিশু। গত মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৯। আর গত দেড় মাসে হত্যা করা হয়েছে ৪৫ শিশুকে। দেশে একের পর এক এই শিশু হত্যার ঘটনা অতীতের যে কোনো সময়কে হার মানিয়েছে।

সংস্থা এর কারণ হিসেবে সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়, বেকারত্ব, অনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা,আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, অনলাইন প্রযুক্তির কুপ্রভাব, পর্ণোগ্রাফির প্রসার, অনৈতিক জীবন-যাপন, পাচার, বিরোধ-শত্রুতা, ব্যক্তি স্বার্থপরতা, লোভ, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি ইত্যাদিকে নির্ণয় করেছে। সংস্থা এসব ঘটনাগুলোকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। সেই সাথে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনকে আরো জোরদার, স্কুল পর্যায়ে কাউনসিলিং, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ছাড়াও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরো সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেবার সুপারিশ করেছে।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস)

 

*Press Release*

*23 February, 2016*

*Murder of Hindu Priest*

*BMBS expressed deep concern and demanded the trial of killers *

Bangladesh Manabadhikar Bastabayan Sangstha- a pioneer human rights organization expressed its deep concern on the murder of Hindu priest and condemned the attack of Hindu Temple in Panchagarh.

Sigma Huda, Chairman of the organization said today in a statement that we strongly condemned the attack and demands the trial of the killers. This type of occurrence cannot be treat as an isolated incident but should be looked at from the boarder perspective of increasing fanaticism and intolerance in the Country.

National Committee Member of the BMBS Mr. Abdal Adil Alvi said that, BMBS, Panchagarh will investigate this case and will conduct a parallel investigation. He said, our team already visited the place and frequently monitoring the situation. They have already taken initiative to oversee the legal matters to ensure the punishment of the perpetrators.

It is mentioned that criminals slit the throat of a Hindu priest at a temple in Debiganj and fled the scene firing shots and exploding homemade bombs which injured his follower day before yesterday. Deceased Jogeswar Chandra Roy is the third religious leader to have come under attack in Bangladesh in the last five months.

Mostafa Sohel

Executive Director

Bangladesh Manabadhikar Bastabayan Sangstha(BMBS)

4, College Road, Shahbag, Dhaka, Bangladesh

 

প্রেস রিলিজ

তারিখঃ ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

পুলিশের অসদাচারন ও বেপোরোয়া নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ক্ষোভ

সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যর অসদাচরণ ও পর পর কয়েকটি পুলিশী নির্যাতনের ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার চেয়ারম্যান এডভোকেট সিগমা হুদা আজ বলেছেন, এসব ঘটনা প্রমান করে পুলিশ এখনো সত্যিকার অর্থে জনগনের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, পুলিশী নির্যাতনের এসব ঘটনা একদিকে যেমন পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখিহচ্ছি।

উল্লেখ্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শাহআলী থানার চার পুলিশের উপস্থিতিতে তাদেও সোর্স দেলোয়ার চাঁদা আদায়ের জের ধরে বাবুল মাতব্বর নামে একজন চা দোকানিকে জলন্ত চুলার উপর ফেলে হত্যা করে। ৯ জানুয়ারী একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকেনির্যাতন, এর এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তাকে নির্যাতন, ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্থা, ২৭ জানুয়ারী যশোরে টাকার জন্য প্রবাসীকে আটক রেখে পুলিশের নির্যাতন, ১৭ জানুয়ারী আগৈলঝরায় ব্যবসায়ীকে পুলিশের নির্যাতন সহ নানা ধরনের খবর প্রতিদিন আসছে। সিগমা হুদা বলেন, এই ঘটনাগুলোর জন্য শুধু অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার বা সড়িয়ে নেয়া নয়, যথাযথ তদÍপূর্বক দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ফৌজদারি আইনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশী তদন্তের বিষয়ে সংস্থা কর্তৃক একটি মামলা ও মনি বেগম নামে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ফৌজদারি মামলার রায়ে হাইকোর্ট এরসুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিজেরা নিজেদের সদস্যদের মামলার তদন্ত করতে পারবেন না।এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান বা কমিটি প্রনয়ন করে এসব তদন্তের সুপারিশ করেন তিনি।

এই সমস্যা সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিয়মিত ভিত্তিতে তদারকি, পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানা ধরণের প্রশিক্ষণ, কোড অফ কন্ডাক্ট মেনে চলার তাগিদ,নৈতিকতা শিক্ষা, ভালো কাজের পুরস্কার নিশ্চিত করা সহ বেশ কিছু সুপারিশ করে সংস্থাটি।

মোস্তফা সোহেল

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস)